বিনোদ কে মায়া

আমি নিশ্চিত যে একমাত্র আপনি পারেন আমাকে সুস্থ করতে, ডাক্তার বাবু প্রতিদিন রাতে একি স্বপ্ন আর স্বপ্নে দেখতে পাওয়া সেই নারী। আমি ওই স্বপ্ন থেকে মুক্তি চাই, আপনি আমাকে আরো বেশী করে ঔষধ লিখে দিন। আমি আজ চললাম পরের সপ্তাহে আবার দেখা হবে। আমি ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে এরপর ঘরে চলে আসি। 
আমি বিনোদ  ব্যানার্জি। আপাতত শহরে আছি তবে শৈশব আমার গ্রামের মধ্যেই কেটেছে। আমার প্রেমিকা নীয়া ও শহরের মেয়ে নামীদামী ফটোগ্রাফার। আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনার। একটা পার্টি তে দুজনের পরিচয়। এরপর ডিনারে দেখা করি, আমি যখন ঠিক করেছিলাম নীয়াকে জানাবো ভালোবাসি তখন নীয়াই নিজে থেকে বলে দিল আমাকে ভালোবাসে, আসলে শহরের মেয়ে তাই হয়তো স্পষ্ট বক্তা। আট বছর থেকে একসাথেই আছি। সবকিছু আমাদের মধ্যে ঠিকই চলছিলো। আমি নীয়াকে নিজের চেয়ে অধিক বিশ্বাস করি। বিশ্বাস এর জন্য আমাদের সম্পর্কে সন্দেহের জায়গা নেই। একদিন নীয়া আমাকে খুব জোর করে ওর নাকি এক পাহাড়ি এলাকায় ফটোশুট করতে যেতে হবে সাতদিনের জন্য। আমাকে যেতে বলে আমি যেতে চাইছিলাম না, তবে মেয়েদের জেদ এর কাছে হার মানতে হয়। প্রায় দুদিন গাড়ি চলে সেই পাহাড়ী এলাকায় পৌছাই  আমরা সবাই, তাবু টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। আমি জায়গাটা দেখে বুঝতে পারি, এতে নিশ্চয় আদিবাসী লোক বসবাস করে।  আমার অনুধাবন বাস্তব হয়ে ধরা দেয় যখন নীয়া কিছু আদিবাসী লোকের ছবি ক্যামেরা এনে দেখতে দেয়,

আমি যখন ফটো দেখছি নীয়াকে কে লাইটম্যান এর সাথে জরুরী কথা বলার জন্যে তাবুর বাইরে যেতে হয়। আমি একটা পর একটা ফটো দেখছিলাম তখন হঠাৎ একটা ফটোতে আমার আত্মা আটকে যায়। একটি আদিবাসী মহীলাকে দেখ,

ওর মুখের আভা যেন একটু বেশী ই, একটা লালীমামাখা সমস্ত শরীর, আমি জুম করে করে ফটো টি দেখতে থাকি। ওর বা গালে একটা কালো তিল, চোখের নীচে কিছুটা জমা কালি,রুক্ষ কালো দাগ কাটা দুটি ঠোঁট। এলোমেলো ভ্রু, মাথায় একঝাক উশৃঙ্খল চুল, কয়েকটা চুল আবার দুই গালের উপর সাপের মতো ছিলো। ছিমছাম তবে এক মনোমুগ্ধকর শরীরের শ্যামল রঙ। উলঙ্গ শরীর। অসমান দুই সুডৌল স্তন,এর কালো বৃন্ত দেখে মনে হয় ওর শরীর যেন বৃষ্টি নামার পূর্বের আবেদনময়ী মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। জুম করে দেখি নাভীর গর্তের পাশে ও দুখানা কালো তিল আছে। শরীরের এর নীচের অংশ তে গাছের ছাল পরিহিত ছিল। আমি তো শুরু করেছিলাম নারী শরীরটিকে খুটিয়ে আবিষ্কার করা, তখনই নীয়া চলে আসে তাবুর ভেতরে। আর ক্যামেরা নিয়ে চলে যায়। আমি নিজেকে সামলে নিই। এরপর নীয়ার পিছু হাটতে থাকি, মনে এই আকাঙ্ক্ষা যদি ওর নারীকে একবার দুই চোখ ভরে দেখতে পাই। মনে তো আরো নতুন আশা জন্ম নিয়েছিলো যে যদি একবার স্পর্শ করতে পারি, ওর শরীরের গন্ধটা নিতে পারি, পরমূহুর্তে মনে হলো, আমি এসব কি ভাবছি, নীয়া আমাকে খুব ভালোবাসে। চার মাস পরে তো আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেছে। আমি জোর করে ওই নারীকে ভুল তে চাইছিলাম তবে পারছিলাম না। আমি এদিক ওদিক উকিঝুকি দিয়ে খুলছিলাম অনেক আদিবাসী নারী পুরুষ কে দেখতেও পেলাম

তবে আমার যাকে প্রয়োজন তাকেই দেখতে পাইনি। রাতে আমার ঘুম আসছে না নীয়া আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। মেয়েটির মুখটা দেখে নিজেকে বুঝানোর চেষ্টা করছি শতশতবার তবে অন্ততঃ আমি হেরে যাই। মোবাইল হাতে নিয়ে তাবুর বাইরে বেরিয়ে পড়ি। কানে ভেসে আসছিলো ঝর্ণার জলের শব্দ, আমি শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে যাই। তারপর দেখি বিশাল জলপ্রপাত, চারদিকে ঠাণ্ডা বাতাস, আমার সেই সময় মনে আসে সেই নারী বাতাসের শরীর ছুঁয়ে যাওয়াকে মনে হয় সেই নারীর ঠোঁটের স্পর্শ। হঠাৎ কান্নার শব্দ ভেসে আসে আমার কানে। খুজে দেখি সেই নারী যাকে আমি খুলছিলাম তবে সে কাদছে কেন, এতরাতে একা একা কি করছে,

পূর্ণিমার রাত ছিলো তাই চারদিকে আলোর অভাব ছিলো না। আমি গিয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি ওর কান্না করার কারণ হলাম আমি, ও বলে প্রতি পূর্ণিমার রাতে ও এই ঝড়নার পাশে আসে এরপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে  স্নান করে, ওদের মতে কোন নারী জলে ডুব দিয়ে ওঠার পর যে পুরুষকে দেখবে ওর সাথে সঙ্গম করতে হয়। আর আজ তো ও আমাকে দেখেছে। আমি ওর হাতে ধরে দাড় করিয়ে বললাম, তুমি ভয় পেয়ো না আমি তোমাকে কিছু করবো না, তুমি কাপড় পড়ে যাও ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো, কাউকে এবিষয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তবে মেয়েটি আরো জোরে কাঁদতে শুরু করে আমি বলি কি হয়েছে মেয়েটি বলে সঙ্গম না করলে তোমার উপর অপদেবতার অভিশাপ এর প্রভাব পড়বে আর বিগত চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি এই সঙ্গম পক্রিয়া সম্পন্ন না হয় তাহলে দুজনের মৃত্যু হবে। আমি শুনে রেগে যাই এইসব কি কুসংস্কার, সত্যি বলতে এই নারীকে আমার ভালো লেগেছে ওকে আমি ও একবার স্পর্শ করে উপভোগ করে দেখতে চেয়েছিলাম। তবে এখন এইরকম পরিস্থিতি এসেছে আমার চাই না কিছু। আসলে আমার ফটো তে ওকে যা দেখেছি ও এর অতিরিক্ত সুন্দর, আকর্ষনীয়। আমার ওকে ভোগ করতে নয়, ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে।

আমি চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হই,তবে মেয়েটি পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আমাকে, এরকম চলে গেলে দুজনের মৃত্যু হবে। আমাকে কিছু তেই যেতে দেয় না, আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে, দমকা হাওয়া বইছে এরমধ্যেই বৃষ্টি চলে আসে, প্রকৃতির যেন চাইছিলো এই দুই শরীর এক হয়ে যাক। মেয়েটির শরীরের গন্ধটা বৃষ্টিতে মিশে গেছিলো, মেয়েটিকে মাদকীয় মনে হয়েছিলো। আমিও তো পুরুষ ই নিজেকে আর কতক্ষণ সংযত রাখবো, আসতে আসতে মেয়েটির শরীরের সমস্ত রুমকোপে আমার অনুভূতি পৌছে দিতে শুরু করি,কামের তাড়নায় প্রকৃতির  কোলে ই দুজন লিপ্ত হতে শুরু করি বৃষ্টির জল আর কাদা মাটি দুজনের শরীরের উপর বেয়ে যেতে শুরু করে। জলের চাপ, শরীরে উষ্ঞতা রুপি চাপকে বাড়িয়ে দেয়। আমি দুরে কোথাও এক সিংহের গর্জন শুনতে পারছিনা নিজেকে সেসময় সিংহ মনে হয়, আমি মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ওর উপরে সিংহের মতো ঝাপিয়ে পড়ি, মেয়েটি যতবেশী চটফট করে আমি ততো বেশী সজোরে গর্জন করি। আমার পারদের উষ্ণতার তৃপ্তি হবার পর খেয়াল করি মেয়েটি নড়াচড়া করছে না। নাকে হাত দিয়ে দেখি ওর শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ। ও মারা গেছে। নিজের কপাল চাপড়াতে থাকি, এ আমি কি করলাম, আগে না হয় নীয়াকে চিট করেছিলাম, এবার তো খুনি হয়ে গেলাম। আমি ভয়ে কি করব বুঝতে পারছি না একটা গাছের নিচে গিয়ে দাড়িয়ে নিজেকে বলছিলাম এসব আমার ই ভূলে হয়েছে। এসময় পাহাড় থেকে এক ঝাক জল নামে আর মেয়েটি কে ঢাক্কা মেরে নিয়ে নেমে যায়। আর মেয়েটি দেখি কাশতে শুরু করে আমি খুশি হয়ে যাই যে মেয়েটি জীবিত আছে, আমি ওর দিকে যাচ্ছিলাম ও মুচকি হাসছিল, আমাকে দেখছিল, আমি ওকে এই গাছের নীচে আনতে যাই তখন বড়ো জল নেমে আসে আর মেয়েকে সঙ্গে ঠেলে নিয়ে চলে যায়।

আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে ধরতে পারি না, আমার চোখের সামনে জলের সাথে পাহাড়ের নিচে চলে যায়। আমি চিৎকার করতে থাকি। এরপর চোখ খুলে দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি। আমার মা আমাকে ঘুম থেকে তুলতে এসেছেন আমি মাকে জড়িয়ে ধরি, মা আমার মাথার লম্বা চুলে হাত বুলিয়ে বলেন, মায়া তোকে কতবার বলেছি এইসব  ভয়ানক গল্প আর সিনেমা দেখবি না, তবে মায়ের কথা মেয়ে শুনতে যাবে কেন। পড়াশুনা করে চাকুরি করে, মা কিছু বললে শুনবে না। আর ভয়ানক স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে চেচিয়ে ঘুম থেকে ওঠবে। তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নাও, আমি খাবার টেবিলে অপেক্ষা করবো। আজ তো তোমার অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে না।

(2) Comments
  • দারুন

  • খুবই আকর্ষণীয়

Write a comment