গাল্পিক।

পােড়া বাড়ির ছাদের উপরে বিকেলে এখনও ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এক মনমোহীনীকে, তার শাড়ীর নীলাভ আচল  মাথায় লম্বা চুল বাতাসে দোলে, 
এ হল মনােহরীনী অশরী।

অনেক বছর ধরে অপেক্ষারত আসবে একদিন ঠিকই আসবে ওর প্রিয়তম।অপেক্ষা করতে করতে হাজারাে বছর পেরিয়ে গেছে, কত কবির কলমে  জন্ম নিয়েছে কবিতা, কত হারিয়ে যাওয়া লেখকের গল্প করেছে আত্মহত্যা, কত নদী শুকিয়ে  হয়েছে মরুভূমি, তবুও এই মনোহরীনীর অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটল না। একদিন স্নান সেরে মনমােহীনী নিজের খােলা কাধ, ভেজা অঙ্গ ও ভেজা চুলেই ছাদের উপরে এসে দাঁড়ায়, চারদিকে এত জোরে বাতাস বইছে যে ওর মাথার চুল বাতাসে ওড়তে থাকে,চোখে,মুখে ছড়িয়ে পড়ে থাকে,ওর পিঠে তিল, সেই বড়াে কালাে তিল, কি দারুণ লাগছিল, ছাদের পাশে থাকা বড়ো কৃষ্ণচূড়া গাছের ফুল উড়ে এসে ওর গালে,ঠোঁটে, কপালে চুমু খাচ্ছিল। গাছের আড়াল বেয়ে রােদের আলাে ওর গালে ঝকঝক করছিল, এই সৌন্দর্য দূরে দাড়িয়ে এক প্রিয়তম মনমােহীনীকে দেখছিল,তবে কাছে যাবার মতাে সাহস ছিল না, ভয় পেতো, আর বয়সটাও তো কম হয়নি, সংসারে ওর পত্নী,বাচ্চা, নাতি, নাতনী সব ই আছে, যাবার ইচ্ছে হলেও তো ও চাইলেই যেতে পারবে না,


যতদিন পর্যন্ত না ওর যাবার সময় হচ্ছে। একদিন রাত্রিবেলা ঠিক ঘড়িতে যখন দুটো বাজল সেই সময় লোকটি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ও মারা গেল।রাত তখন প্রায় তিনটে মনমােহীনীর দরজায় কে যেন কড়া নাড়ল, আর ডাকলাে মােহী ও মােহী, দেখাে আমি
এসেছি, মনমােহীনীও উন্মুক্ত চুলে দৌড়ে গেল দরজার পাশে ওর হ্রদকম্পন বেড়ে গেছে জোড়ে জোড়ে ধক-ধক করছে, এতদিন পর আজ  প্রিয়তম মনমােহীনীর কাছে এসেছে, মনমােনীনী দরজা খুলে ওই লোকটির হাত শক্ত করে ধরে ওকে নিয়ে ছাদে আসল, এরপর আরো শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখলাে, ততক্ষণ অবধি জড়িয়ে রেখেছিলো যতক্ষণ পর্যন্ত একটু আলাে হয়নি। আস্তে আস্তে ভােরের ফুটল,সেই আলাে এসে মুখের উপর পড়ল হাল্কাভাবে।


লোকটি লক্ষ্য করলো যে এই মনমােহীনী তিশ বছর আগেরকার মতাে রয়েছে,তবে সম্পূর্ণ রূপে বদলে গেছে ওর প্রিয়তম, সে এখন বুড়াে হয়ে গেছে,শরীর জরাজীর্ণ, চামড়া কুঁচকানো, মনমোহীনী অভিমানী কণ্ঠস্বর নিয়ে 
বলে আমি তো তােমার অপেক্ষায় ছিলাম,আমি
জানতাম তুমি একদিন আসবে,এই দেখো তােমার দেওয়া নাকের নলকখানা আজ ও যত্ন করে রেখেছি, তুমি কোন একদিন এসে নিজের হাতে পড়িয়ে দেবে বলে, এই নাও তুমি নাকে পড়িয়ে দাও, এরপর লোকটি নিজের হাতে পড়িয়ে দিল আর কাপাস্বরে বলল মােহী তুমার জন্য যে কিছুই আনতে পারিনি III মোনমোহীনি রেগে গিয়ে বলে ইশ! আমার কিছু চাই না। তুমি এখন আমার সাথে
আছাে,তুমি ব্যথিত আমার কিছু চাওয়া নেই। চলো আমরা এবার যাই,আমাদের  এবার যাবার সময় এসেছে এই বলে মনমােহীনী ওর প্রিয়তম এর ঠোঁটে সজোরে চুমু খায়, আর আস্তে আস্তে করে ওরা অবছায়া, ওদের শরীর বাতাসে মিশে যায়।এরপর ইউটিউব এর স্কিন এ উঠে আসে কিছু লিখা। এটা একটা বাস্তব গল্প তবে মনমোহীনীর অতীত সম্পর্কে কিছু আজও জানা যায়নি। দোতলা বিশিষ্ট বাড়িটিতে কেউ ভয়ে যায় না। তবে অনেক বছর আগে মনমোহীনী নামের এক সুন্দরী মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এই পোড়াবাড়ি থেকে।

এরপর থেকে অনেক পুরুষমানুষ এর অভিযোগ এই বাড়ির ছাদের ওপর এক উন্মুক্ত চুলের নারীকে দেখা যায়। যে ইশারায় ওদেরকে নিজের কাছে ডাকে। একদিন সাহস করে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন তবে কেউ আর ফিরে আসেননি। অন্ততঃ পুলিশ প্রশাসন তদন্তে নেমে কিছু উদ্ধার করতে পারে নি। এরপর বাড়িটিতে কারো যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে। এতক্ষণ ধরে রিয়া এই ভিডিও টা দেখছিলো। এসবকিছু দেখার পর রিয়া ঠিক করে ও যাবে এই বাড়িতে। আর মনমোহীনীর মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করবে। আসলে রিয়া ছিল একজন লেখিকা সে বাস্তব জীবনের গল্পের উপর তদন্ত করে গল্প লিখত। এরজন্য ওর গল্পের চাহিদা বাজারে খুব বেশি ছিল। এতদিন ক্রাইম রেকর্ডস নিয়ে গল্প লিখেছে তবে এই মনমোহীনীর ভিডিও দেখার পর সিদ্ধান্ত নিল যে এবার রিয়া সেনগুপ্ত ভূতের গল্পের আড়ালে লুকিয়ে রাখা মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করবে। ওর গল্পের না হবে
 "" কে এই মনমোহীনী?"" 
রিয়া এবার নিশ্চিত যে ও এবার ও Best selling author এর উপমাটি ওর মাথার উপরের মুকুটে থাকবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। রিয়া কাউকে না জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে রহস্য উন্মোচন এর পথে। রিয়া আর বিনোদের বিয়ের প্রায় সাতবছর হয়েছে ওদের একটা তিন বছরের ছেলে ও আছে। বিনোদ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখে ঘরে রিয়া নেই, আলমারীতে ওর কাপড় নেই। বিনোদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেননা এসবের অভ্যাস ওর আছে রিয়া এইরকম প্রায় ই কাউকে কিছু না বলে গল্পের খোজে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। রিয়ার এই গল্প লেখার প্রতি নেশা অনেবার অনেক বিপদে ফেলেছে রিয়াকে। যখন আট মাসের গর্ভবতী ছিল তখন ও একদিন কাউকে না বলে কোথায় চলে যায়। ক্রিমিনাল এর পিছু নিতে গিয়ে রিয়া সিড়ি থেকে পড়ে যায়। এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় একাই হাসপাতালে পৌছায়,আটমাসেই ততক্ষণাৎ   ডেলিভারি করা হয় রিয়ার। 
আজ ও রিয়া চলে গেছে ঈশ্বর জানেন কোথায় গেছে। 
বিনোদ রিয়াকে নিয়েই সর্বক্ষণ চিন্তায় থাকে।প্রায় তিন চারদিনের রাস্তা অতিক্রম করার পর গোগল ম্যাপ এর সাহায্য রিয়া এসে পৌঁছায় মনমোহীনীর সেই পোড়াবাড়িতে। বাড়ির চারপাশে প্রায় অর্ধেক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কোন জনবসতি নেই। ভয়ে এই বাড়ির চত্বরে কেউ পা জমায় না। এই বাড়িতে আসা আর সুসাইড করা একি ব্যাপার। রিয়া মনে সাহস নিয়ে  নিজের ফোনে বিনোদ ও ওর তিন বছরের ছেলের ফটোতে চুমু খেয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় পোড়াবাড়ির মস্ত বড়ো লোহার দরজায়। উঠোনে পা রাখতেই চারদিন যেন সিনেমার মত বদলাতে থাকে। মৃত গাছপালা সজীব হয়ে ওঠে, গাছে পাখি কিচিরমিচির করে ডাকতে শুরু করে একটা ষোলো-সতেরো বছরের মেয়ে দৌড়ে এসে রিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে ছাদের উপরে নিয়ে যায়। এরপর ছাদের উপর থেকে কৃষ্ণচূড়া ফুল অতি আনন্দের সাথে কুড়াতে থাকে। তখন দরজায় কেউ এসে কড়া নাড়ে মেয়েটি দরজার শব্দ শুনে ভয়ে কাপতে শুরু করে চোখে জল ছলছল করে,রিয়ার পেছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে।

রিয়া কিছু বুঝতে পারার আগেই নীচের থেকে শব্দ পেলো ঘরের দরজা কেউ ভেঙেছে এর পর দেখে কিছু লোক ছাদে ওঠে এসেছে, এরপর ওই মেয়েটিকে রিয়ার পেছন থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তবে ওই লোকগুলো যেন রিয়াকে দেখতে পারছেনা। রিয়া ওদের বলছে ওই মেয়েকে ছেড়ে দাও, আমি পুলিশকে ফোন করছি তবে রিয়ার ফোনে কোন সিগন্যাল নেই। রিয়া লক্ষ্য করে ওর ফোনে বছর দেখাচ্ছে ১৭২১ তবে এখন তো ২০২০ চলছিলো। রিয়া এসবে গুরুত্ব না দিয়ে ওই মেয়েটিকে বাচাতে ছাদের সিড়ি বেয়ে নীচে নামে তখন দেখে মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে চঠফট করছে। রিয়ার শরীর ঘষে এক প্রেগনেন্ট মহীলা দৌড়ে যায় মেঝের উপর পড়ে থাকা মেয়েটির কাছে ওই মহীলাটির ছিল ভেজা উন্মুক্ত চুল, কাধে একটি বড়ো কালো তিল। পায়ে নূপুর, হাল্কা ভেজা শরীর যেন সে এই স্নান করে এলো। রিয়ার চোখের সামনেই  দুই মহিলাকে মেরে ফেলা হলো। রিয়া কতবার চেচিয়ে বললো ওদের ছেড়ে দাও, আটকাতে গেলো তবে কাউকে স্পর্শ করতে পারলো না।

এরপর মৃত দুই শরীরকে উঠোনে মাটি চাপা দিয়ে সবলোক গুলো বাতাসে মিশে গেলো। এরপর রিয়া দেখে সমস্ত বাড়ির রঙ রুপ পাল্টে যায়। বাড়িটি এক  জীর্ণ পোড়াবাড়ি তে রুপান্তরিত হয়। চারিদিকে শুধু অন্ধকার রিয়া ওর মোবাইল এর লাইট অন করে ছাদের উপরে পৌছায়। সময়টা পড়ন্ত বিকেলে বেলা। সূর্যিমামা বাড়ি ফিরছেন। চারদিকে জোড়ে বাতাস বইছে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল উড়ে এসে পড়ছে রিয়ার উপর। রিয়া মোবাইল এ সময় দেখতে গিয়ে দেখে এখন ২০২০ দেখাচ্ছে। হঠাৎ নূপুরের শব্দ হয় রিয়া পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে এক সুন্দরী মহীলা আসছে ওর দিকে, সত্যি যেন এক মোহীনী নারী। রিয়া ব্যাপার টা বুঝতে পেরেছিলো তাই ওই মহীলাকে বলে ' তুমি চাইলে আমাকে মেরে ফেলতে পারো,তবে আমার একটা তিন বছরের ছেলে আছে,( তিন এই শব্দ শুনে মনমোহীনী পা থামিয়ে দেয়,)আমি মারা গেলে এই মনমোহীনীর মৃত্যু রহস্য উন্মোচন হবে না। তুমি চাইলে আমাকে আসল সত্য বলতে পারো আমার কলমের জোড়ে আমি তোমাকে সঠিক সম্মান দেবো। তুমি কে? সবার কাছে পৌছে দেবো। তোমার আত্মা শান্তির পূজা আমি করাবো ও নিয়ম অনুযায়ী তোমাদের দুজনের কঙ্কালের দাহ করবো। মনমোহীনীর চোখ লাল, সূর্যের আলো যেতে না যেতেই মুখ ও শরীর বিকৃত হচ্ছে দেখতে। রিয়ার দিকে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে আনতেই রিয়া চোখ বন্ধ করে দেয়। রিয়া জানে এখানেই ও শেষ, ওকেও মেরে ফেলবে মনমোহীনী। তবে মনমোহীনী রিয়ার শুধু হাত স্পর্শ করে আর রিয়া দেখতে পায় মনমোহীকে একটা নদীর তীরে মা, বাবা ছোট বোন কে নিয়ে থাকতো একদিন কিছু খারাপ লোকদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে বাবা মারা যায় এরকিছু দিন পর সাপের কামড়ে মা মারা যায়।

দুইজন বোন সম্পূর্ণ একা। ঝড়ের ঝাপটে এক নৌকা এসে উপছে পড়ে মনমোহীনীর দরজার পাশে। ভয়ে দরজা খোলে দেখে এক প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক আহত হয়ে পড়েছে। দুই বোন মিলে ঘরে নিয়ে যায়। লোকটিকে যত্ন করে প্রায় দুই দিন পর লোকটি সুস্থ হয়ে ওঠে। মেয়ে দুটির কেউ নেই শুনে আশ্রয় দেবে বলে লোকটির সাথে নিয়ে আসে এই দুতলা বিশিষ্ট বাড়িতে। পড়তে দেওয়া হয় দামী কাপড়, আভোশন। খেতে দেওয়া হয় ভালো খাবার। ওদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, আস্তে আস্তে দিন কেটে যায় দুই মেয়ে এখন সভ্য সমাজে মেলামেশা করার জন্যে উপযোগী, বাবুয়াদে দুজন যেন কোন ম্যমসাহেব। মনমোহীনীও দেখতে হয়ে ওঠে সুন্দর, নব যৌবনা রুপ লাবণ্য এ যেন পাথরকে ও মোমের মতোন গলিয়ে দেবে।আস্তে আস্তে চারপাশের পুরুষ দের মুখে লালা জমতে শুরু করে এই লাবণ্যতার স্বাদ পাবার জন্য।

তবে দুজনকে এখানে আশ্রয় দিয়ে সযত্নে বড়ো করা জমিদারবাবু ও বুঝতে পেরেছিলেন চারপাশের পুরুষ মানুষের উতলা হয়ে যাবার ব্যাপারটা। তিনি ওদের যত্ন করার পেছনের উদ্দেশ্যে হলো তিনি নতুন প্রাণ পেয়েছিলেন ওই দুই বোনের জন্য, তাই এই দুই বোন জমিদারবাবুর অতি প্রিয়। তিনি ঠিক করেছিলেন মনমোহীকে বিয়ে করবেন ওর ছোট বোন কে উনার বন্ধুর ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেবেন। যে বিলেতে পড়াশোনা করছিলো। একদিন জমিদার মশাই অতিরিক্ত সুরা পান করেন। আর মনমোহীনীর সাথে দেখা করতে আসেন তিনি মোহীনীকে জানান যে বিয়ে করতে চাইছেন।মনমোহীনীও লজ্জা পেয়ে ছুটে যায় ছাদের ওপর। তবে সেই সময় আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি পড়তে শুরু হয়। মনমোহীনীও দৌড়ে নীচে ফিরে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য রাতে এই বাড়িটিতে থাকেন। রাতের বেলা কাম উত্তেজনার কাছে হার মেনে সমস্ত সীমানা উলঙ্ঘন করে দুই শরীর এক হয়ে যায়। এই ঘটনার কিছু দিন পর জমিদারবাবু জরুরী কাজে বিদেশ গমন করেছেন। এদিকে মনমোহীনীও প্রেগনেন্ট হয়ে যায়। শাড়ির উপর দিকে উকি ঝুঁকি দিতে থাকে নতুন অতিথির আকৃতি অদল। জমিদারবাবুর বড়ো ভাই যখন জানতে পারেন এসব, তখন লোক পাঠিয়ে মেরে ফেলেন দুই বোনকে ওদের ওদের শরীর লুকিয়ে ফেলেন। জমিদারবাবু ঘরে ফেরার পর দুই বোন কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে এই মিথ্যে কথা বলে নাটক করেন।

রিয়ার চোখ খুলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পায়। ওর স্বামী ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছে।ওর ছেলে ওর স্বামীর কাধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে। রিয়া ওর স্বামী কে জড়িয়ে ধরে। তারপর ছেলেকে কোলে নিয়ে ওর সমস্ত মুখে চুমু খেতে থাকে। ওর স্বামী জানায় ওর ল্যাপটপ এর হিস্ট্রি দেখে বুঝেছে রিয়া নিশ্চিত ওই পোড়া বাড়িতে গেছে। পোড়া বাড়ির সামনে পৌছানোর পর রিয়াকে গেইটের বাইরে অজ্ঞান অবস্থায় পায়। রিয়া ওর কথামতো নিয়ম মেনে দুই বোনের শেষ ক্রিয়া সম্পূর্ণ করে। ওই মনমোহীনীর গল্পটি প্রকাশ করে। এইবার ও রিয়া নিজের রেকোড ভেঙেছে কেননা রিয়া Best selling author, রিয়া আর ওর স্বামী ফুটপাতের উপর দিয়ে হেটে একটা ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো তখন রিয়ার স্বামী রিয়াকে থামিয়ে বলে আমাকে প্রমিজ করো তুমি এইরকম ভয়ানক কাজ করবে না আমি তোমাকে হারাতে চাই না। রিয়া  প্রমিজ করে যে আর এইরকম গল্পের পেছনে ছুটবে না। রিয়া ব্রিজের নিচে লক্ষ্য করছিলো পুলিশ এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে। তবে রিয়া ওর স্বামীর সাথে ঘরে চলে আসে রাতের খাবার খেয়ে তিনজন ঘুমিয়ে পড়ে। সকালবেলা আবার সমস্ত ঘর খুজে রিয়ার খবর নেই।

মোবাইলে একটা বিডিও মেসেজ আসে..  রিয়া বলছিল Don't mind baby,আমি নতুন গল্পের খোজে এসেছি, তবে ডিনার একসঙ্গে করবো আমরা, ছেলেকে বলিও মম্মা loves him. আর এই প্রমিজ তো করাই হয় যাহাতে ভাঙা যায়.....  তারপর বিডিও তে ঝড় নামে চিৎকার এর আওয়াজ বিডিও শেষ। 
(গল্পটা পড়ে কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ)

(1) Comments
  • আপনার লেখা খুবই সুন্দর এবং সাবলী। আপনার লপখা একটি চটি গল্প পড়তে চাই।

Write a comment