সূর্যোদয় ?

আমি বাথরুমে স্নান করছি, শাওয়ার এর ঠাণ্ডা জল, উফ্ এ যেন গরমের দিনে পাওয়া পরম তৃপ্তিময় মূহুর্ত। তবে একটা ঘটনা অদ্ভুত আমি চোখ বন্ধ করলে তাজা রক্তের গন্ধ পাই, আবার চোখ খুলতেই সব কিছু স্বাভাবিক।

আমি রিমি সেনগুপ্ত। বিয়ের চার বছর হয়েছে তবে 'মা' হতে পারছিলাম না। আমার স্বামী বিনয় সেনগুপ্ত উনিও ভীষণ ভালো মানুষ, মা হতে পারেনি বলে আমাকে কখনো মনে কটু কথা বলে আঘাত করেননি। একটা বাচ্চা ছাড়া আপাতত সবাই ছিল। তবে একদিন ঘরে আচমকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগে সবাই শেষ হয়ে যায়। বিনয় ও আমাকে বাদ্য হয়েই শহরের বাইরে এই জনশূন্য স্থানে এসে বসবাস করতে হয়। এই নতুন জায়গায় প্রথমে আমার ও অসুবিধে হয়েছিলো তবে আমার কাজের মাসীর ষোলো বছরের মেয়ের সঙ্গ পেয়ে আমি খুবই খুশি। ঘরটি পুরোনো রাজবাড়ীর মতো, বড়ো বড়ো কৌটোর মতো উনিশ থেকে কুড়িখানা কামড়া। অনেক বড়ো হল রুম, বড়ো রান্নাঘর, পরিত্যক্ত কালী মা এর পূজোর ঘর। মস্ত বড়ো উঠোন যুক্ত, দুতলা বিশিষ্ট প্রাসাদ। উঠোনোর উত্তর কোনায় একটা বড়ো বটগাছ, দক্ষিণ কোনায় বড়ো জলের কুয়ো। কাজের মাসীর মেয়ে ফুলমতীর হাত খুবই দক্ষ। আমাকে দারুণ সুন্দর করে সাজিয়ে দেয় প্রতিদিন।রাত্রি বেলা চন্দ্রমা আমার রূপ দেখে লজ্জায় মেঘের পেছনে মুখ লুকিয়ে বেড়ায়। আমার পায়ে নূপুর, হাতে বকের মতো সাদা শাখা ও রক্তিম পলা। সিথিতে রক্ত বর্ণা সিঁদুর। কানে ময়ূর পলকের দোল, নাকে সোনালী নলক, মাথায় পদ্ম ও চম্পা ফুলের মালা, শরীরে আতরের লোভনীয় গন্ধ। রামধনুর থেকে ও বেশী রঙিন আমার শাড়ী। আমি যখন চলাফেরা করি আমার নূপুরের শব্দে সমস্ত প্রাসাদ ছনছন করে ওঠে। রাতের বেলা আমার নূপুরের শব্দ শুনে বট গাছের পেঁচা নূপুরের তালে তাল মিলিয়ে ডাকতে থাকে। প্রতিদিন বিকেলবেলা ফুলমতি আমাকে অপ্সরার মতো সাজিয়ে দেয়। প্রতিদিন রাত ঠিক বারোটায় আমাকে কেশোর মেশানো একগ্লাস দুধ খাওয়ানো হয়। এরপর আমার কিছু মনে থাকে না। তবে সকালবেলা ঘুম ভেঙে যাবার পর খুব মাথা ব্যথা হয়,ফুলমতিকে দেখি সে একটি একটি করে আমার অলংকার ও কাপড় এদিক ওদিক থেকে কুড়িয়ে নিচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে মাথার কাপড় ঠোঁটে টেনে লজ্জা পেয়ে দৌড়ে চলে যায়। বিনয় কে জিজ্ঞেস করলে বিনয় মুখে মিথ্যে হাসি দিয়ে গালে চুমু দিয়ে, টেবিলের উপর থেকে ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে চলে যায়। আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আমার প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট এ ছয় থেকে সাতবার পজিটিভ এসেছে

তবে দুদিন পর চেক করলে নরম্যাল দেখায়। আমি দিন দিন শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছিলাম। আমার খাওয়া দাওয়া সব ঠিক ছিল তবে কেন এমনভাবে ভেঙে পড়েছিলাম কিছুই বুঝতে পারলাম না। তবে একটা বিষয় লক্ষ্য করি প্রত্যেকবার ফুলমতি জিজ্ঞেস করে আমার প্রেগনেন্সি টেস্ট এর ব্যাপারে আর ওকে জানানোর পরের দিন আমার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে। আমি বিরক্ত হয়ে যাই একদিন ঠিক করি এইসব কি হচ্ছে আমি রহস্য উন্মোচন করে তবেই থামবো। আমি বাথরুমে যাই শাওয়ার এর নীচে দাড়াই। সমস্ত শরীর বেয়ে জল নামে, শরীরে আনাচে কানাচে জলের ছোঁয়াচে লাগে। আমি চোখ বন্ধ করলে যেন টাটকা সতেজ রক্তের গন্ধ আসে নাকে। যাইহোক আমি প্রেগনেন্সি টেস্ট করি আজ আমার পজিটিভ আসে। আমি খুব খুশি হয়ে যাই। ফুলমতি কে ডেকে বলতে চলে যাই তবে ওর নাম নিয়ে ও নিজেকে সামলে দিই। ফুলমতি জানতে চায় কিছু লাগবে আমি না বলে চুপ হয়ে যাই। তারপর পায়ের নূপুর অনেক কষ্ট করে খুলে ফেলি। উলঙ্গ শরীরে কাপড় দিয়ে ঘষে আতরের গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করি। স্নান সেরে। নিজের পেটে হাত বুলিয়ে নিজের বেবি'কে প্রমিজ করি মম্মা উইল সেইভ ইউ!  তোমাকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে মম্মা দেবে না, তুমি মম্মা কাছে সুরক্ষিত। এরপর পজিটিভ টেস্ট কীট জানালার বাইরে ফেলে দিই।  বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসতেই ফুলমতি উৎসাহের সহিত জানতে চায়, আমি কি গর্ভবতী। উত্তর না পাওয়ায় মুখ ভার করে চলে যায়। তবে কিছু টা দূর গিয়ে আবার ফিরে আসে আমার নূপূর কেন পায়ে নেই এই বলে কথা বলে আমি স্পষ্ট করে জানিয়েও দেই যে আমি আর নূপূর পড়বো না। ও রেগেই যায় এরপর চলে যায়। আমি বিছানায় শুয়ে আছি, বিনয় এসে পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। এরপর বিনয় চলে যাবে সেই সময় আমি ওর হাত ধরে আটকে নিই। কাছে টেনে এনে গলায় জড়িয়ে ধরি, ওর বা -কানে ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে গাল বেয়ে ঠোঁটে চুমু খাই। বিনয় বলে যেতে চায় তবে আমি ওকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদর করতে থাকি।

ওর শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে দিই। আমার সেই সময় আমাদের কাশ্মীরের ফুলসজ্জার কথা মনে পড়েছিলো। বাইরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ছিল তবে ঘরের ভিতর উষ্ঞতার উত্তাপে পুড়ছিলো। আজ ও ঠিক একি অবস্থা সমস্ত শরীরের শিরা উপশিরা উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এতক্ষণে আকাশে মেঘ জমেছে ঘন কালো মেঘ আর কিছু সময় পরে শুরু হলো প্রচণ্ড বেগে আক্রমণ বৃষ্টির প্রকৃতি যেন উন্মাদনার সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় পর বিনয় আর আমি একত্রে বিছানায় শুয়ে আছি। বিনয়ের পেটের উপর চুম্বন করে মাথা রেখে শুয়ে আছি। দরজায় শব্দ হয় ঠকঠক। বিনয় কাপড় পড়ে চলে যায়। যাবার সময় বলে আমি ফুলমতিকে দিয়ে মেডিসিন পাটিয়ে দেবো। আমি চুপ করে বিছানা চাদর শরীরে আকড়ে শুয়ে থাকি। কিছুক্ষন পর ফুলমতি একগ্লাস জল ও একটা ঔষধ নিয়ে আসে। আমি ওকে চলে যেতে বলি, ওর মুখ ভার চোখ যেন খানিকটা লাল। ও যাবার পর আমি ঔষধ লুকিয়ে নিই ও মুখে জল নিয়ে ঔষধ খেয়েছি নাটক করি, ফুলমতিও জল খেতে দেখে আমি ঔষধ খেয়েছি এই ভেবে খুশি হয়ে চলে যায়। আজ বিকেলে আমি ও বায়না ধরি আর সাজবো না। অনেক বুঝানোর পর আমি ওদের কথামতো সাজীনি। রাত বারোটায় দুধ ও খাইনি। আজ রাত প্রায় দুটো হবে দরজায় শব্দ হয়, বিনয় আমাকে দেখে। চেক করে আমি ঘুমন্ত না জেগে রয়েছি। আমাকে ঘুমন্ত দেখে বিনয় দরজা খুলে ফুলমতির সঙ্গে যায়। আমি চুপি চুপি পিছু করি। এরপর বিনয়ের কপালে কালোফোটা পড়িয়ে দেয় ফুলমতি।     হলরুমে কি যেন যজ্ঞ করছে ফুলমতির মা। কালো পোশাক পরে বিনয় আসে এরপর ফুলমতি বিনয়ের হাতে ধরে নিয়ে যায়। হল রুমে যঞ্জকুণ্ডের সামনে শুয়ে পড়ে

এরপর এক এক করে শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে দেয়। এরপর মুখ থেকে একটা মুখোশ টেনে খোলে। আর আস্তে আস্তে সমস্ত শরীরের মাংস কুচকাতে শুরু করে ঠিক যেন ষাট উর্ধে কোন এক বৃদ্ধা। ফুলমতির মা চোখ বন্ধ করে মন্র পড়ছে আর আগুনে লাল তরলের আহুতি দিচ্ছে। বিনয় নিজের শরীরের সমস্ত কাপড় খোলে, এরপর মুখের থেকে মুখোশ খুলে, বিনয় দেখতে বছর চল্লিশের যুবকের মতো দেখাচ্ছে। এরপর ওরা দুজনেই সঙ্গমে লিপ্ত হন। আমার দুচোখ বেয়ে জল ঝড়তে থাকে। ফুলমতি তৃপ্তিময় অবস্থায় আর্তনাদ করছিলো। ফুলমতির মা আরো জুড়ে মন্র পড়তে শুরু করেছিলো। সম্ভোগ পক্রিয়া শেষ হলেই ফুলমতী বিনয়কে আমার কাছে যাবার জন্য বলে। আর কাপাসুরে বলে এবার বাচ্চা চাই, যা খুশি করো। বিনয় বলে আজ আর কিছু করা যাবে না রিমি ঔষধ মেশানো দুধ খাইনি, তাই ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফুলমতীর মা বলে তাড়াহুড়া করো না ধৈর্য রাখো। শিকার জালে যখন ফেসেছে আর পালিয়ে যাবে কোথায়। বিনয় ও ফুলমতি কাপড় ও মুখোশ পড়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। আমি আবার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। বিনয় আসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে তুমি জেগে আছো আমি জানি। আমি ওঠে বসি এরপর কিছু বলতে যাবো বিনয় ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। তারপর দরজা ভালো করে লক করে, জানালার লক চেক করে পরদা লাগিয়ে দেয়। আমার ভয় করছিলো আমার বেবি এর না ক্ষতি করে বিনয়। আমার হাতে ধরে বাথরুমে কোলে তুলে নিয়ে যায় এরপর শাওয়ার চালিয়ে আমার সামনে হাত জোড় করে বলে আমাদের বেবিকে বাঁচাও তুমি। একমাত্র তুমি পারো বাচাতে। ওর মুখের মুখোশটা খুলে দূরে ফেলে দেয়। আমি প্রথম কাদতে দেখেছি। বিনয় বলে মুখোশের ভেতরে চোখের জল দেখা যায় না। আমি বাবা হয়ে আর পারছি না সন্তানের হত্যা করতে। আমাকে মুক্তি দাও তুমি। এইসবের শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় আঠারো বছর আগে আমার কলেজের এক বান্ধবীকে ভালোবাসতাম আমাদের পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। আমরা সময় কাটাতে পূর্বপুরুষদের প্রাসাদে আসি,

ওইদিন রাতে সঙ্গমে লিপ্ত হই। তিন চার দিন থাকার পরে মেয়েটি জানায় যে সে প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ। আমার ক্যারিয়ার সবে শুরু হয়েছিল তাই আমি ওই বেবি নিতে চাইছিলাম না। দুজনে প্রচুর ঝগড়া হয় তখন মেয়েটি অজ্ঞাতবসত উপর থেকে হলে পড়ে যায়। আমি ভয়ে কি করব বুঝতে না পেরে শহরে পালিয়ে যাই। এরপর সাত বছর কাছে আমি সবকিছু ভুলে যাই। পরিবারের লোক একটি মেয়ে দেখে বিয়ে ঠিক করে, হনিমুনে এই প্রাসাদে আসি। ওইদিন রাতে আমার কিছু মনে নেই। পরেরদিন সকাল বেলা আমার নববিবাহীতা পত্নীর মৃতদেহ উদ্ধার করি বটগাছ থেকে। ঘরে ঢুকে ফুলমতির মাকে দেখতে পাই ওনার থেকে জানতে পারি কালো জাদু করে মেয়েকে ফিরিয়ে এনেছেন। আমি যখন ছোট্ট ছিলাম তখন থেকেই ভালোবেসেছে মেয়েটি আমাকে ওর মারা যাওয়া মেনে নিতে পারেননি। আমাকে বাদ্য করেন ওনার মেয়ের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হতে। আমি এরপর ও চারবার বিয়ে করেছি।তবে সবাই মারা গেছে অতিরিক্ত এ্যবোরশনের ফলে, সবাই দূর্বল হয়ে পড়েছিলো একসময় বিছানায় দেহত্যাগ করেছে। প্রেগনেন্ট হবার তিনদিনের মাথায় বাচ্চা কে বের করে আনে ফুলমতির মা তারপর কালোজাদুর যজ্ঞে আহুতি দেয়। যাতে উনার মেয়ে সর্বদা কুমারী দেখায়। আসলে সে বয়সে আমার থেকে অনেক বড়ো ছিলো। ওর মায়ের জাদু টোটকার জন্য কেউ বুঝতে পারে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমাদের এই বাচ্চা কেও ভালোবাসি আমি তোমাকে অন্যদের মতো বিছানায় পড়ে শেষ হয়ে যেতে দেবো না।

আমার মাধ্যমে নতুন মহীলার শিকার করে ওদের লালসা তৃপ্তি করে। তোমাকে এই ঘরের সীমানা এড়িয়ে যেতে হবে রৌদ্রের আলো তুমার উপর পড়লেই তুমি ও বেবি সুরক্ষিত। আমি বিনয়কে ছেড়ে যাব না ওকে নিয়েই যাব। বিনয় ওর মাথার প্রতিজ্ঞা দিয়ে দেয় রিমি সেনগুপ্ত সব পারে, বেবিকে নতুন জীবন দিতে একমাত্র রিমি পারবে। এমন সময় বাইরে প্রচুর বৃষ্টি পড়ছিল ঘরের বাতির হাল্কা আলোতে বিনয়ের মুখের দিকে লক্ষ্য করি। আমি যাকে চিনতাম সে আঠাশ বছরের পুরুষ তবে এই পয়ত্রিশ বছরের বিনয় দেখতে কম সুন্দর না। আঠাশের বয়স বেড়ে পয়ত্রিশ এ পৌছোলে একি রকম দেখাবে। দুজন দুজনকে দেখছিলাম। বিনয় মুখের এলোমেলো চুল সরিয়ে দেয়। এরপর ঠোঁটে চুমু খেতে থাকে। হঠাৎ সজোরে ঢাক্কা দিয়ে বলে। তুমি এখন চলে যাও। চোখ বেয়ে জল ঝড়ছে বিনয়ের সেও জানে সুর্য উদয়ের পর সবকিছু বদলাতে যাচ্ছে। আমার চোখের সামনে একের পর এক আনন্দে কাটানো মুহুর্ত গুলো ভেসে আসছে। বিনয়কে জড়িয়ে ধরে বুকে কান্নায় ভেঙে পড়ি। একটা বাচ্চা ছাড়া সব কিছু ছিল আমাদের। আজ যখন সত্যই আমি মা হতে চলেছি, বিনয়কে বাবা বলে ডাকার জন্য একজন আসছে ঠিক তখনই আমাদের এইরকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি কেদে কেদে বিনয়ের পায়ে লুটিয়ে পড়ি। যে পায়ে হাজারবার লুটোপুটি খেয়েছি আজ চোখের জলে ধুয়ে গেছে সেই পায়ের পাতা। বিনয় আমাকে হাতে ধরে তুলে নেয়,এরপর বলে

" "হয়তো আজি এই শেষ নিশি,

আমি প্রিয়তমাকেই ভালোবাসি।

চলো শেষবার দুজন মিলে রঙিন ছবি আঁকি,

আজকে শেষ বারের মতো রাতটাকে মননে গেথে রাখি""।

 

এই বলে দুজন দুজনের হাতে হাত রাখি, একে অপরকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করি। অন্ততঃ রতি ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে যাই। তবে আজ জেতার জন্য লড়াই করিনি একে অপরের কাছে হেরে যেতে চাইছিলাম। দুজনেই হারতে চাইছিলাম।  অবশেষে বুকে একে অপরকে জড়িয়ে থাকি রাত্রি অনিদ্রায় কাটে।

আমি কিভাবে বিনয়কে ছেড়ে যাবো বুঝতে পারছিলাম না। আমার বাচ্ছাকে আহুতি দিলে আমি আর কোনদিন মা হতে পারবো না। আর বিনয়কে এই জায়গায় ছেড়ে গেলে  নরকে বাচতে হবে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। বিনয়কে বশে করে আরো অনেকের ক্ষতি করতে পারে ফুলমতী। আমি দুটানায় পড়েছি। পরেরদিন সকালে আমি সিড়ি বেয়ে নেমে আসছি এখন ই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, বিনয়, ফুলমতি, মা নীচে হলে দাড়িয়ে আছে। আমি সিড়ি বয়ে নেমে চোখ বন্ধ করে পা স্লিপ করিয়ে দিই। আমি সিড়ি থেকে নীচে পড়ে যাই। আমার ব্লিডিং শুরু হয়। শাড়ী ও পা বেয়ে রক্ত আর রক্ত আমার চারপাশে জমে যায় রক্ত। ফুলমতির মা এর চোখ বড়ো হয়ে যায়। আমার পাশে আসে, আমি আমার শাড়ী ভেতর থেকে ছুরি বের করে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওর হৃদয়ে আঘাত করি। শরীরে অলৌকিক ক্ষমতা অনুভর করি। আমি আরো জোরে আঘাত করি। ওর মুখ বেয়ে রক্ত পড়ে, ছুরির আঘাত পাওয়া অংশ থেকে রক্ত ঝড়ে সে মারা যায়। ফুলমতি হাওয়ায় মিশিয়ে যায়। বিনয় আমাকে কোলে তুলে নিয়ে রৌদ্রে আসে উঠোনে। আমি ওর মুখের মুখোশ খুলে ঘরে ফেলে দিই এরপর দুজন এই জায়গা ছেড়ে চলে যাই। শহরে চলে আসি এরপর একেবারে ইণ্ডিয়া থেকে বিদেশে চলে আসি। এখন লণ্ডনে আছি। আমি গর্ভধারণ করতে পারিনি। বিনয় পেশায় একজন ইন্জিনিয়ার ছিলো। আজ প্রতিষ্ঠিত। আমরা একটা ছেলে ও মেয়েকে এডোপ্ট করেছি।

আমাদের জীবন এখন পরিপূর্ণ, মাঝেমধ্যেই আমার ওই প্রাসাদের ঘটনা নিয়ে দুখ হয় তবে বিনয় ওর বুকে জড়িয়ে ধরে বলে আমরা আর কোনদিন ইণ্ডিয়া যাব না। তুমি ভয় পেয়ো না, আমি তোমার সাথে আছি। সেসময় আমাদের বাচ্চা দুটো মম্মা বলে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমি সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই।  এখন আমাদের পরিবার ও পরিপূর্ণ। আমাদের ""বিনয়রিমি"" সেনগুপ্ত নামে একটা অনাথ আশ্রম আছে।।

(1) Comments
Write a comment