বিধবার আস্ফালন।
28 August 2020
একটা ছেলে একটা মেয়ে বিকেলবেলা ছাদের উপর'পা ঝুলিয়ে বসে আসে, দুজন সুইসাইড করবে ৷ এরপর ওদের কথোপকথন
মেয়ে:-তাহলে একসাথে মরতে যাচ্ছি আমরা, আমি না এতদিনে একটা জিনিস আবিষ্কার করছি।
ছেলে:- ভয় করছে না তাে গাে! তােমার কোন সমস্যা নেই তাে, মানে পুরােনাে কোন কথা মনে পড়ে সুইসাইড করাটা বাদ দিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে না তাে? আমার এতে অসুবিধা নেই, তােমার জন্য আমি সব কিছু করতেপারি। মরতেও পারি।
মেয়ে:- পুরােনাে মানে কি? তুমি সব পারাে তাই না, শুধু বেচে থাকতে আপত্তি তােমার?
ছেলে: -ওই তুমার আমার একসাথে কাটানাে প্রিয় মুহূর্ত, ওইগুলাে ফিরে পেতে ইচ্ছে করছে না তােমার।আসলে আমার অতিরিক্ত ভালােবাসাই তােমাকে বিজ্ঞ করেছে। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
মেয়ে:-আমি কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছি তুমি জানতে চাইলে না আবিষ্কার টা কি।
ছেলে:-বলাে কি, আমাদের হাতে অল্প কিছু সময় আছে বলে দাও।
মেয়ে:-হুমম! আচ্ছা তুমি তাে বাচতে পারতে,তবে তুমি কেন মরতে তৈরী হয়েছো? আসলে চার পাঁচ জন মিলে রেপ তো আমাকে করেছে, আমার শরীরের শিরা উপশিরা ক্ষত বিক্ষত করেছে, এতে তােমার তাে কিছু হয়নি তাহলে তুমি কেন! আমি বলছি কি শুনো, তুমি চলে যাও তুমি মুক্ত আকাশের নিচে বেঁচে থাকো না অনন্ত কাল। তুমি একটু ভেবে দেখো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না, তুমি প্লীজ চলে যাও।
ছেলে:-(মেয়েটার হাত ধরে) ক্ষত তােমার শরীর হলেও আমার ওযে হয়েছে মন জর্জরিত।তুমাকেও বুঝালাম আবার নতুন করে শুরু করি, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি তােমাকে খুব ভালােবাসি, আমি কোনদিন তােমাকে পিছুটান নিয়ে কিছু বলব না, তুমি ক্ষমা করে দাও আমাকে দুজনে নতুন জীবন শুরু করি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।
মেয়ে:-চলাে আমরা ছাদের উপর থেকে পড়ে বিদায় নিই।এর পরেই দুজন দাড়িয়ে জাম্ফ দিল তবে মেয়ে ঝুঁকে নিজেকে সামলায় ও ছেলে নীচে পড়ে যায় ৷ এরপর চটফট করে মরে যায়। মেয়েটি আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা সিগারেট বের করে সেটাকে টেনে চোখ বন্ধ করে ভাবছে
.................." অতীতের কথা দুজন অনেক খুশি ছিল, নতুন রঙে রঙিন হয়ে গেছিলো জীবন,একবছর হয়নি বিয়ের, দুজন মিলে পিকনিকে আসে,রাস্তায় দেখা হয় স্বামীর সৌদি ফেরত কয়েকটা বন্ধুর সাথে, মেয়েটি স্বামীকে মানা করে ওই বন্ধু দের সাথে নিয়ে যেতে ,ওর ভয় করছিল খুব।ওর স্বামী কোনকথা শুনে না। একসাথে সবাই মিলে পিকনিকে আসে এরপর পিকনিকে সবাই মদ খায়,এরপর ওই পাঁচজন উন্মত্ত হয়ে যায় নেশার ঘোরে মেয়েটিকে সারারাত পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে, এরপর মেয়েটির স্বামীও সবার সাথে তাল মিলিয়ে রেপ করে। মেয়েটির স্বামী নেশার ঘােরে নিজের ওয়াইফকেভেবেছে নিজের অফিসের কলিগ সেক্সি রিটা রায়। ছয় জন মিলে- মিশে মেয়েটাকে শেয়ালের মতাে ছিড়ে ,নিংড়ে, চিবিয়ে খায়। একটা সময় মেয়েটিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মেয়েটির ঝাপসা ভাবে মনে পড়ে ওর স্বামীর শেষ কথা।
"guys Fucked her" .. Fucking Rita. Wait I m
coming , Fuck you again bitch Rita,".
ছেলেটির সকালবেলা নেশার ঘাের কাটে,দেখে ওর স্ত্রী উলঙ্গ অবস্থায় অজ্ঞান হয়েই পড়ে আছে। সমস্ত শরীর রক্তে রাঙানাে, ছেলেটি প্রথমে ওয়াইফকে তাবুর ভিতরে নিয়ে যায়,মুখে জল ছেটায় আস্তে আস্তে জ্ঞান ফেরে,সৌদি ফেরত ওই পাঁচজন বন্ধু পালিয়েছে। ছেড়া শাড়িটিকে অনেক কষ্টে শরীরে জড়িয়ে জঙ্গলের পাশে থাকা একটা পুরােনাে পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশ করে। জনমানবহীন চারতলার পুরােনাে বাড়ি। বারবার নিজের ভুল এর কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করে,মেয়েটি প্রশ্ন করে স্বামীকে
"রিটা হলে ও কি তার সাথে এইরকম করতে,রেপটা করে কি রিটাকে বাচতে দিতে না জ্বালিয়েপুড়িয়ে দিতে"! তুমি তো খুব ভালােবাসতে, আমার প্রতি এই তােমার প্রেম।"
ছেলেটি লজ্জায় বলছে না মানে! প্লিজ একটু বুঝতে চেষ্টা করাে, তুমি।ক্ষমা করে দাও আমাকে ৷ আমি নেশায় ছিলাম, আমি তো তুমি মনে করে করিনি এইসব। বিশ্বাস করাে আগের থেকে অনেক অনেক বেশি করে ভালােবাসবাে তুমাকে, সব ভুলে নতুন করে শুরু করবো আমরা।আমিও পাল্টে যাবো। মেয়েটি চিৎকার করে বলে আমি মরতে চাই, দৌড়ে প্রায় ছাদের উপরে উঠে আসে,এরপর চুপ করে দাড়িয়ে থাকে অনেকসময়, তবে একফোটা চোখে জল নেই, ছেলে টা বলে আমিও তােমার সাথে মরব কেননা ভুল তো করেছি আমি ও! মেয়েটি চুপ করে শুনছে একটাও কথা বলছে না, যেন চিরকালের জন্যে এক নিশকচুপতা উপহার দিয়ে দিয়েছে ওর স্বামী কে।ছেলেটি আবার বলে দুজনে সবকিছু ভুলে আবার নতুন শুরু করতে পারি।আমি তোমাকে এত ভালােবাসব যে তোমার ওই সব ক্ষত দূর ই করে দেবাে।মেয়েটি এবার বলে" শরীরের ক্ষত না হয় দামী মেডিসিন ও সার্জারি করিয়ে তুমি তুলে দেবে, তবে আমার মনের ক্ষত! এগুলাে কি করবে তুমি"?( যা চোখে দেখা যায় না তা কি নেই) কথা বাড়িয়ে কি হবে, আমি আর বাচতে চাই না ।জোর করাে নাতুমি, আমি আশা করি তুমি এই আবদারটুকু রাখবে।ছেলেটিও জোর গলায় বলে আমি ও তােমাকে একা যেতে দেব না, সঙ্গে আমিও আসছি,
.................মেয়েটি আবার বাস্তবে ফিরে আসে, হাতে থাকা সিগারেট একটু ঠোঁটে জোর দেয় এরপর সিগারেট এর ধােয়া হাওয়ায কুণ্ডলিনী পাকিয়ে ভেসে ওঠে। মেয়েটা ছাদের নিচে পড়া ছেলেটার মৃত দেহের দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থাকে এরপর বলে।ওই তোমাকে বলেছিলাম না যে আমি একটা আবিষ্কার করতে পেরেছি।আসলে ওই আবিষ্কার টা হল :- "ভুল তাে ভূলই হয়, ভুলের ক্ষমা করতেনেই, একটা দায়িত্ব হাতে নিতে হয়, ওই সকল বিভ্রান্ত মানুষদেরকে দিতে হয় মুক্তি।আমার শুরু তােমাকে দিয়েই।তুমি না রাগ করাে না, আসলে আমি তােমার সাথে মুক্ত হয়নি। আমার অনেক কাজ রয়েছে এই যেমন আমি যা আবিষ্কার করতে পেরেছি সেটার তো প্রচার শুরু করেছি,তবে এর শেষ না করে করে আমি কি করে তােমার সাথে আসতাম ই বা বলো,
এমনটা করলে যে ভারি অন্যায় হত বাপু। এরপর মেয়েটা চলে যায় থানায় ও অভিযােগ করে ওর স্বামী নিখোঁজ। পর-পর ছয়-সাত মাস পর-পর থানায় কেইস জমা পড়তাে "সৌদী ফেরা লােক নিখােজ"। এইরকম পুরো পাচটি কেইস জমা পড়েছিলো থানায়। বর্তমানে মেয়েটি একটা নামীদামী সংস্থার চেয়ারম্যান, দশহাজারের ও অধিক অনাথ শিশুর জননী। অনাথ শিশুর মুখে হাসি ফোটাতেই জীবন উৎসর্গ করেছে।
"" পুলিশি সন্দেহ ও তল্লাশির বাহিরে রয়ে গেল সেই পরিত্যক্ত বাড়িটি, না হলে পুলিশের হাত ধরে হয়ে যেত অনেক গোপন তথ্যসূত্রের আবিষ্কার "
(গল্পটি আপনাদের পড়ে কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন আমাকে। আপনাকে কমেন্ট আমাকে উৎসাহ প্রদান করবে)
(0) Comments
Write a comment