একটি রাত

"এক রাতের জন্য "

 জীবনের টানাপোড়াতে অনেক সময় নিজেকে সামলাতে না পেরে ভুল করে থাকি, আমি যা করেছি তা ভুল না সঠিক পাঠকরা বিবেচনা করবেন।আমি একটা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তে চাকুরি করি, কোম্পানির মডেলের ফটোশুট করাই আমার কাজ                        

,তাই বিভিন্ন সময় আমার আউট অফ হুম যেতে হয়। ঘটনাটা 2007 এর কোম্পানির ট্রিপে ছয় দিনের জন্য বাইরে যেতে হয়, আমার ফটোশুট  ভালোই হয়,আণ্ডার পেন্ট পড়ে সুইমিং পুলের সামনে মডেল ছেলে ও ব্রা পেন্টি পড়ে মেয়ে! ওদের শরীরের অবয়বকে বিভিন্ন এ্যাঙ্গলে ক্যামেরা বন্দী করা এই কাজ, আমি কাজ করতে করতে আচমকা থমকে যাই,নাকে যেন খুব চেনা পারফিউম এর গন্ধ এসে স্পর্শ করেছে,খানিকটা অস্বস্তি বোধ করি,আমি সহকর্মীর উপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যাই,মনের ভেতরটা কেমন যেন মুচড়ে যাচ্ছে,আমি গাড়িটি ভালো করে চালাতে চেষ্টা করছি কিন্তু ঠিক যেন পারছি না, নিজের শরীরের উপর কন্ট্রোল নেই,গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়,আমি অজ্ঞান । যখন চোখ খুলে দেখি আমি বুঝতে পারি কোন এক আভিজাত্য হোটেলের রুমে আছি                           

,বিছানায় বসতে চেষ্টা করছি তবে মাথা ঘুরছে তাই পারছি না, তখন দেখি অভিক এসে সামলে নেয় আমাকে, একটা মেডিসিন আর জল খাইয়ে দেয়, গালের উপরের চুলগুলো মাথার পেছনে সরিয়ে বেধে দেয়। আমার বা হাত এনে অনামিকার রিং এর উপরে চুমু খায় আমি হাত গুটিয়ে নিই,অভিকের ঠোঁটের স্পর্শ আবার ও সেই অস্বস্তি অনুভব করি। অভিক মৃদু হেসে পাশের রুমে চলে যায়। আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা ,বুকে কেমন যেন অসহ্যকর যন্রনা করছিল। ডান হাতটা বুকের উপর রাখি তো অনুভব করি অর্ন্তভাস নেই, লজ্জায় ঘুমরে বসি, অভিক ও কি একটা বক্স নিয়ে চলে আসে রুমে হয়তো আমার লজ্জা পাওয়ার বিষয়টা বুঝতে পারে তারপর নিজের রক্ত বিন্দু জমা হয়ে যাওয়া হাত দেখিয়ে বলে দেখো তুমি কি করেছো. সমস্ত কাপড়ে রক্ত লাগানো ছিল তাই আমি যত্ন করেই পরিষ্কার করেছি, আসলে কষ্ট দেওয়াটা মেয়েদের অভ্যাস হলেও কিন্তু সেটা আমার মতো সহজ ছেলেদের স্বভাব না, অভিকের কথায় ব্যঙ্গ ব্যক্ত হয়। আমি কিছু বলিনি তবে হাল্কা স্বরে ছরি বললাম। অভিক যেন অভিমান করে বলল দীয়া তুমি তো নতুন কোন ভুল করোনি যে এই নিয়ে ছরি ফিল করছো! দীয়া আমার হাতে এটা কি জানো?  আমি কিছু বলিনি চুপ করে বসে আছি, অভিক নিজে থেকে বলছে দীয়া এই বক্সে একটি রিং আছে তোমার অনামিকাতে পড়াবো বলে অনেক বছর আগে কিনেছিলাম,গতকাল রাতে দেখলাম আমার আগেই আমার সমস্ত অধিকার অন্য কেউ চুরি করে নিয়েছে। আমি এতক্ষণে মুখ খুলতে বাধ্য হলাম, অভিক তুমি তো সুইসাইড করেছিলে, এক্সিডেন্ট এর পর তোমার মুখের বা-পাশের সমস্ত মাংস এক জায়গায় কুণ্ডলিনী পাকিয়ে গেছিলো আমি রাতে এখন ও ঘুমোতে পারি না তোমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী ওইদিন নেশা ঘোরে না থেকে যদি স্লো গাড়ি চালাতাম তাহলে সেই এক্সিডেন্ট হতো না। আমি কতবার বুঝিয়েছি তোমাকে আমি ভালোবাসি, মুখের এক সাইড নষ্ট হয়েছে তো কি হয়েছে 'আই ওয়াজ লাভ ইউ'। তুমি কেন সুইসাইড করেছিল। তুমি আমাকে প্রমিজ করেছিলে রাতেরবেলা ঘুমতে গিয়ে একটা পিলো ব্যবহার করব কারণ দীয়া আমার বুকে মাথা রেখে শান্তি তে ঘুমোতে। সুইসাইড করার আগে একবার আমার কথা মনে করোনি, দীয়া যে আর শান্তির ঘুম আসবে না কোনদিন। অভিক ছাড়া দীয়া অসম্পূর্ণ । একমিনিট তুমি তো সুসাইড করেছিলে তবে আজ এখানে কি করে ? অভিক হেসে ফেলে আর বলে সুইসাইড একটা নাটক ছিল। আমি এরপর আমেরিকা চলে যাই প্রায় চার বছর ডাক্তার চেষ্টা করে এরপর প্লাস্টিক সার্জারি করে এই নতুন চেহারা উপহার দেয়। দীয়া তুমি আমাকে চিনতে পারবে আমার অনুমান ছিলো না, আমি হেসে বলি কথায় আছে না অভিক মানুষ বদলে গেলেও ওর আদত বদলায় না,‌অনেক পছন্দ বদলায় না তোমার পারফিউম টা ছোট্ট উদাহরণ। অভিক এসে বিছানার পাশে বসে, আমার বা হাত ধরে হঠাৎ রিং খুলে ফেলে,আমি কিছু বলতে যাই আমার ডানহাত নিয়ে ওর গালে স্পর্শ করায় বলে 'ফিল মি' আমি তোমার দীয়া!'ক্লোজ ইয়োর আইস' আমার চারদিকে যেন এক অন্ধ মায়াজাল ঘুরছিল। আমার কাণ্ডজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে আমি চোখ বন্ধ করে দিই, আর স্পষ্ট দেখতে পাই অভিককে হ্যা এই তো আমার অভিক যাকে অনেক ভালোবেসেছিলাম তবে কোনদিন চুমু খেয়ে দেখিনি, তবে আজকের এই মূহুর্ত কে হাতছাড়া করতে মন চাইছে না, আমি ওর একেবারে মুখের কাছে চলে যাই ওর ঠোঁটের উপর ঠোঁট রাখি,                        

সজোরে চুমু খাই, ওর সমস্ত গালে হাত বুলোতে থাকি, ঠোঁটে আরো জোরে চুমু খাই,ও তো সেই ছেলে যাকে এত ভালোবেসে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিলাম, তবে আজ ফিরে পেয়েছি ঠোঁটের উষ্ণতা চারদিকের পরিবেশকে মাতাল করে তুলতে আরম্ভ করেছে, অভিক ছুরি দিয়ে একটা একটা করে সবগুলো জামার ফিতে কেটে দেয়।শরীরের উষ্ণতা স্রোতের মতো বয়ে যেতে শুরু করেছে            

উত্তেজনার উন্মাদতায় কখন যে সকাল হয়ে গেলো আমরা বুঝতে পারিনি। সারারাত ঘুম হয়নি তবে চোখে একবিন্দু ঘুম নেই,শরীর ফুরফুরে। অভিক কফি নিয়ে আসে, আমি কফি তে চুমুক  দিই এরপর রোমান্টিক মুডে অভিকের ঠোঁটে চুমু দিয়ে স্নানাগারে চলে যাই, অভিক দরজা খুলতে বলে আমি খুলি না এরপর অভিক নাটক করে বলে  উফফফ্ আঙ্গুল টা কেটে গেল। আমি কোথায় আঙ্গুল কেটেছে দেখতে দরজা খুলে আসি তখন অভিক হেসে হাতে ধরে টেনে বুকের কাছে নিয়ে আসে ওর শরীরের মনমোহক গন্ধে আমার মন উদ্ভেলিত হতে শুরু করেছে ওর উষ্ণ শ্বাস প্রশ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে, আমি আবার চোখ বন্ধ করে দিই অভিকের ডান গালে স্পর্শ করি আমি আবার অনুভব করি এই তো সেই আমার অভিক যাকে আমি ভালবাসতাম,অভিক নিজের কোলে তুলে নেয় এরপর স্নানাগারে নিয়ে যায়,                              

   

শাওয়ার চালিয়ে দেয়,কাধ থেকে ভেজা চুল ঠোঁট দিয়ে সরিয়ে চুমু খেতে খেতে বলে দীয়া আমারা বিয়ে করে নেবো আমি চোখ খুলে দিয়ে অভিকের থেকে খানিকটা দূরে সরে আসি,আমি রেগে গিয়ে বলি এটা কখনো সম্ভব না অভিক। আমি বিবাহিতা  পাচটি কন্যা সন্তানের মা আমি। অভিক বলে আমি শুধু তোমার জন্য নতুন রূপ নিয়ে এসেছি, চারবছর বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু অপেক্ষার মুহূর্ত শেষ হবার কথা ভেবেছি, এমন কোন রাত যাইনি যে অভিক দীয়া বলে চিৎকার করেনি। আমি ঘুমিয়ে পড়লেও বুকের উপর থেকে হাত সরাতাম না, আমার দীয়া বুকের উপর শুয়ে আছে এই ভেবে। দীয়া তোমাকে চাই। 

আমি স্নানাগার থেকে বেরিয়ে যেতে চাই তখন অভিক ওর কাছে নিয়ে যায় আমার হাত আবার ওর ডানগালে রেখে আমাকে চোখ বন্ধ করতে বলে, মন্রমুগ্ধ যেন আমি চোখ বন্ধ করে দিই আবার অনুভব করি আমার অভিককে, সমস্ত শরীর বেয়ে জল ঝরছে, ঠোঁট এ সজোরে চুমু খাই, পারদরুপী শরীরে উষ্ঞতা বেড়েই চলেছে শারীরিক সমাগম এর মধ্যে দিয়েই এই পারদের উষ্ণতার তৃপ্তি ঘটে।

 কিছুক্ষন পর অভিক খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি সুযোগ বুঝে চলে যাই। 

আমার ছোট মেয়ে দিশা ফোন করেছিলো তবে ফোন সাইলেন্ট থাকায় আমি বুঝতে পারিনি, এক্ষুনি ফোন করি দিশা কেদে কেদে বলছে মাম্মাম তুমি কোথায়, আই মিস ইউ, আমি ওকে মিস ইউ টু লাভ ইউ ,পরে কথা বলছি বলে ফোন কেটে দিই। 

শুটিং স্পট এ গিয়ে দেখি সবাই আমার অপেক্ষায় ছিল, আমি আসলেই রওয়ানা দেবে বাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়িতে বসে ঘুম আসলেই চোখের পলক বন্ধ হলেই অভিকের সঙ্গে জড়ানো স্মৃতি চলে আসে। 

ফোন বের করে দেখি মেসেজ করেছে অভিক। দীয়া তুমি কেন চলে গেছো, অভিকের বেচে থাকার জন্যে দীয়া চাই। আমি ইণ্ডিয়া এসে তন্ন তন্ন করে খুজেছি তোমাকে তবুও পাইনি, গতকাল ক্যামেরা হাতে দেখে হঠাৎ করে দেখেছি তোমাকে এতবছর পর তোমার পাশে ও গেছি তবে কথা বলিনি আমার চেহারা পাল্টে গেছে দীয়া যদি চিন্তে না পারে। আমি তোমাকে দেখছিলাম হঠাৎ তুমি গাড়ি নিয়ে তাড়াহুড়া করে বেড়িয়ে পড়ো তোমার পিছু করে দেখি এক্সিডেন্ট করেছো গাড়িতে অজ্ঞাত হয়ে পড়ে আছো। দীয়া প্লিজ প্লিজ অভিকের কাছে ফিরে এসো। 

আমি মেসেজ গুলো পড়ে দুফোটা চোখের জল ফেলে লিখি। অভিক আমি তোমাকে ভালোবাসতাম,তবে তুমার সুসাইড করার পর অনেক কিছু পাল্টে গেছে, আমার মামা মামী জোড় করেই প্রিয়ম এর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। আমার এ বিয়ে সুখের এখনও হয়নি পরপর পাচটি মেয়ের জন্ম হয়, প্রিয়ম প্রথম মেয়ের জন্মের পর থেকে খুশি না, ওর ছেলে চাই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পাঁচজন মেয়ে, প্রিয়ম বলেছে এই ট্রিপ থেকে ফেরার পর ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে আবার চেষ্টা করবে এইবার যদি মেয়ে হয় তাহলে ডির্ভোস দিয়ে দেবে আর পাচ মেয়েকে ছিনিয়ে কোন বেশ্যালয়ে বসিয়ে দেবে। প্রিয়ম অসুরের প্রতিবিম্ব। আমার উপর অজস্র বার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছে, মদ খেয়ে মাতাল হয়ে প্রিয়ম ও ওর বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করেছে ঠিক কতবার তা গুনতে বসলে অনেকবার হবে। অভিক তুমি হয়তো শুনলে হাসবে যে দীয়ার বাইরের দিকটা জমকালো তবে দীয়া কেন প্রিয়মের কাছে পড়ে আছে। সত্যি বলতে মেয়েগুলোর পড়াশুনা চালাতে কাজ করা। প্রিয়মকে বিয়ে করছি, প্রতিজ্ঞা করেছি ওর পাশে থাকবো তাই ওর সব অত্যাচার সহ্য করে নিই। 

অভিক মনে আছে তুমি বলতে সবসময় দীয়া আর অভিকের মেয়ে হবে এরপর একটা বেশী দুষ্টুমি করবে বলে ছেলে হবে। আমি মেয়ে পেয়েছি, আমি অভিক আর দীয়ার ছেলে চাইছি। আমাকে ক্ষমা করে দিও অভিক। আর কোনদিন সাক্ষাৎ হবে না। অভিককে আমি এইগুলো পাঠিয়ে দিয়ে মোবাই গাড়ির বাইরে ফেলে দিই। দুচোখের জল মুছে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালবেলা অফিসে পৌছে আবার শাড়ী, চুড়ি সিদূর পড়ে এরপর দশটা নাগাদ বাড়িতে পৌছাই। প্রতিদিনের মতো মদের বোতল, সিগারেট এর গন্ধ সমস্ত ঘরে। প্রিয়ম বমি করে শুয়ে আছে সোফায়। ওকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিই। মেয়েরা সবাই স্কুলে চলে গেছে। বিকেলে ঘরে ফেরে আমাকে দেখে ওদের খুশির ঠিকানা নেই। প্রিয়ম কাজ কিছু এখন করে না, বিজনেস লস করেছে এরজন্য আমি আর আমার মেয়েদের দায়ী করে, আমার থেকে টাকা নিয়ে নেশা করে। নেশার ঘোরে প্রিয়মের ,ছ দিন পর  মাথায় এল ছেলে তো চাই। জোর করতে শুরু করলো, শরীরে উপর দিয়ে বয়ে গেল তুফান। চরমাস পর ডাক্তার দেখিয়ে জেনে নিল গর্ভে ছেলে। প্রিয়মের খুশির ঠিকানা নেই,হয়তো একটু পাল্টে যেতে পারে ওর নেশার ঘোর কাটতে পারে এখন তো ছেলে আসছে ওর ঘরে। প্রিয়মের খুশি দেখে আমি ও খুশি। তবে আমি লুকিয়ে একটা মেসেজ করি 'অভিক তুমার কথাটা সত্যি ছিল " তারপর চোখ বন্ধ করি মনে পড়ে অামি ট্রিপ থেকে ফেরার দুদিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করেছিলাম

           রেজাল্ট এসেছিলো পজিটিভ।

(2) Comments
Write a comment